দ্বৈতশাসন কি? বাংলায় দ্বৈতশাসনের ফলাফল আলোচনা কর। 211001-3-2018-2020

 প্রশ্ন: দ্বৈতশাসন কি? বাংলায় দ্বৈতশাসনের ফলাফল আলোচনা কর।

উত্তর: দ্বৈতশাসন (Dual Government) হলো ব্রিটিশ ভারতের বাংলার ইতিহাসের একটি অনন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা ১৭৬৫ সালে মোগল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার 'দেওয়ানি' (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করার পর লর্ড ক্লাইভ এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন

সহজভাবে বলতে গেলে, এতে ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র তৈরি হয়:

. নবাব: তাঁর হাতে ছিল বিচার শাসন পরিচালনার দায়িত্ব, কিন্তু কোনো অর্থ বা ক্ষমতা ছিল না।

. কোম্পানি: তাদের হাতে ছিল রাজস্ব আদায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু শাসনের কোনো দায়িত্ব ছিল নাঅর্থাৎ, নবাবের ছিল 'দায়িত্বহীন ক্ষমতা' আর কোম্পানির ছিল 'ক্ষমতাহীন দায়িত্ব'

বাংলার জনজীবনে এই দ্বৈতশাসনের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ভয়াবহ। নিচে এর ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে, তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।

. অর্থনৈতিক বিপর্যয় লুণ্ঠন: কোম্পানির মূল লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব রাজস্ব আদায় করা। তারা ভূমি রাজস্বের হার অত্যধিক বাড়িয়ে দেয় এবং কৃষকদের ওপর কঠোর নিপীড়ন শুরু করে। দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে মসলিন রেশম শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় কারণ কোম্পানি তাঁতিদের নামমাত্র মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করত

. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ): দ্বৈতশাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ছিল ১৭৭০ সালের (বাংলা ১১৭৬) ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। একদিকে অনাবৃষ্টিতে ফসলহানি, অন্যদিকে কোম্পানির কঠোর রাজস্ব আদায়ের ফলে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারায়

. প্রশাসনিক সামাজিক বিশৃঙ্খলা: প্রশাসনে দুটি পক্ষ থাকায় আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। চোর-ডাকাতের উপদ্রব বেড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। নবাবের হাতে অর্থ না থাকায় তিনি জনকল্যাণমূলক কোনো কাজ করতে পারতেন না, আর কোম্পানি জনকল্যাণের তোয়াক্কাই করত না


আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments