উনিশ শতকে বাংলার সমাজসংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর। 211001-14-2018

 প্রশ্ন: উনিশ শতকে বাংলার সমাজসংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা কর। 211001-14-2018

        উত্তর: উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর সমাজসংস্কার আন্দোলন ছিল যুক্তিবাদ গভীর মানবিকতার এক অনন্য সমন্বয় তিনি কেবল প্রাচীন শাস্ত্রের দোহাই দেননি, বরং প্রচলিত কুসংস্কারের মূলে আঘাত করে সমাজের পিছিয়ে পড়া নিগৃহীত শ্রেণির জন্য সমমর্যাদার পথ প্রশস্ত করতে আজীবন লড়াই করেছেননিচে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগরের ভূমিকাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো:

এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে, তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।


বিধবাবিবাহ প্রবর্তন: বাংলার সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে এটি বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তিনি শাস্ত্রীয় প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে বিধবাবিবাহ অবৈধ নয়। তাঁর আন্দোলনের ফলেই ১৮৫৬ সালে বিধবাবিবাহ আইনগত স্বীকৃতি লাভ করে এবং তিনি নিজ উদ্যোগে অসংখ্য বিধবাবিবাহ সম্পন্ন করান

নারী শিক্ষার প্রসার: নারীদের শিক্ষিত না করলে জাতির মুক্তি সম্ভব নয়এই বিশ্বাস থেকে তিনি বাংলায় নারী শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি ড্রিঙ্কওয়াটার বিটনের সহযোগিতায় 'বেথুন স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজ ব্যয়ে গ্রামগঞ্জে ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ: অল্প বয়সে কন্যাদের বিয়ে দেওয়ার ফলে সমাজে বিধবার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই ভয়াবহ কুপ্রথা বন্ধে তিনি জনমত গঠন করেন এবং সরকারের কাছে আবেদন জানান। তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে সমাজে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়

বহুবিবাহ প্রথার বিলোপ: তৎকালীন কুলীন ব্রাহ্মণদের মধ্যে প্রচলিত বহুবিবাহ প্রথা ছিল চরম অমানবিক। বিদ্যাসাগর এই প্রথার বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদ গড়ে তোলেন এবং এর বিলোপ সাধনে আইন প্রণয়নের জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যান, যা সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে সাহায্য করে

সংস্কৃত শিক্ষার আধুনিকায়ন: তিনি সংস্কৃত কলেজের দ্বার সকল বর্ণের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রচলিত বর্ণবাদ দূর করেন। এছাড়া পাঠ্যক্রমে ইংরেজি আধুনিক বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করে তিনি শিক্ষার আধুনিকীকরণ করেন, যা রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আনে

বাংলা গদ্যের সংস্কার: সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে তিনি বাংলা ভাষাকে পরিমার্জিত করেন। 'বর্ণপরিচয়' রচনার মাধ্যমে তিনি শিশুদের শিক্ষার সহজ পথ তৈরি করেন এবং বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করে একে ভাব প্রকাশের উপযোগী সাবলীল করে তোলেন

অজেয় মানবিকতা দয়া: তাঁর সমাজসংস্কার কেবল আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল আর্তের সেবায় নিবেদিত। অনাথ দরিদ্রদের সহায়তায় তিনি তাঁর উপার্জনের বিশাল অংশ ব্যয় করতেন, যার ফলে সমাজ তাঁকে 'দয়ার সাগর' উপাধিতে ভূষিত করে

 

আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments