প্রশ্ন: কলিঙ্গ যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল পর্যালোচনা কর। 211001-10-2018
উত্তর:
মৌর্য সম্রাট অশোকের জীবনে এবং ভারতের ইতিহাসে কলিঙ্গ যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ২৬১) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। নিচে এই যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল ৩টি করে প্রধান পয়েন্টের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হলো:
এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে, তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।
কলিঙ্গ যুদ্ধের কারণসমূহ:
১. সাম্রাজ্য বিস্তার ও নিরাপত্তা: সম্রাট
অশোক তাঁর
পূর্বপুরুষদের দিগ্বিজয়
নীতি অনুসরণ
করে বিশাল
মৌর্য সাম্রাজ্য
গড়ে তুলতে
চেয়েছিলেন। মগধের
সন্নিকটে অবস্থিত
শক্তিশালী ও
স্বাধীন 'কলিঙ্গ'
(বর্তমান উড়িষ্যা)
সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার
জন্য ছিল
বড় হুমকি।
২. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ: কলিঙ্গ
ছিল সমুদ্র
উপকূলবর্তী এলাকা।
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার দেশগুলোর
সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের
জন্য এবং
স্থল ও
জলপথের ওপর
আধিপত্য বজায়
রাখতে কলিঙ্গ
জয় করা
অশোকের জন্য
অপরিহার্য ছিল।
৩. কৌশলগত অবস্থান: দাক্ষিণাত্যে
যাওয়ার পথে
কলিঙ্গ একটি
বাধা হিসেবে
দাঁড়িয়ে ছিল।
মগধের দক্ষিণমুখী
প্রসারের জন্য
এই স্বাধীন
রাজ্যটিকে করায়ত্ত
করা সামরিক
ও রাজনৈতিকভাবে
জরুরি ছিল।
যুদ্ধের ফলাফল:
১. ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অশোকের অনুশোচনা: কলিঙ্গ
যুদ্ধে প্রায়
এক লক্ষ
মানুষ নিহত
হয় এবং
আরও দেড়
লক্ষ মানুষ
বন্দী হয়।
যুদ্ধের এই
চরম বীভৎসতা
দেখে অশোকের
মনে গভীর
অনুশোচনা ও
মানসিক পরিবর্তন
আসে।
২. ‘ভেরিঘোষ’ থেকে ‘ধর্মঘোষ’: এই
যুদ্ধের পর
অশোক চিরতরে
যুদ্ধত্যাগ করেন।
তিনি অস্ত্রের
মাধ্যমে রাজ্য
জয় (ভেরিঘোষ) ত্যাগ
করে ধর্মের
মাধ্যমে মানুষের
হৃদয় জয়
করার নীতি
(ধর্মঘোষ) গ্রহণ
করেন। তিনি
উপগুপ্তের নিকট
বৌদ্ধ ধর্মে
দীক্ষিত হন।
৩. বৌদ্ধ ধর্মের বিশ্বায়ন: যুদ্ধের
পর অশোক
তাঁর সমস্ত
শক্তি বৌদ্ধ
ধর্ম প্রচারে
ব্যয় করেন।
তাঁর প্রচেষ্টায়
বৌদ্ধ ধর্ম
ভারত ছাড়িয়ে
মধ্য এশিয়া,
শ্রীলঙ্কা এবং
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায় ছড়িয়ে
পড়ে এবং
একটি বিশ্বধর্মে
পরিণত হয়।
আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।
0 মন্তব্যসমূহ