প্রশ্ন: বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় লিপিবদ্ধ কর। 211001-9-2018
উত্তর: বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় কোনো একক উৎস থেকে নয়, বরং বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর দীর্ঘকালব্যাপী রক্তধারা ও সংস্কৃতির মিলনে গঠিত হয়েছে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাঙালি একটি ‘সংকর জাতি’। বাঙালি জাতির এই বিবর্তনের মূল স্তরগুলো বুঝতে আমরা এর প্রধান উৎসগুলোকে তিনটি ধাপে ভাগ করে দেখতে পারি:
এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে,
তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।
১. প্রাক-আর্য বা আদি স্তর: বাঙালির মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে আর্যরা আসার অনেক আগে। এই স্তরে প্রধানত তিনটি গোষ্ঠীর প্রভাব দেখা যায়:
v নেগ্রিটো: এরা বাংলার প্রাচীনতম অধিবাসী বলে ধারণা করা হয়।
v অস্ট্রিক (নিষাদ): এদের রক্তধারা বাঙালির শরীরে সবচেয়ে বেশি প্রবহমান। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে এদের প্রভাব অপরিসীম।
v দ্রাবিড়: এদের মাধ্যমেই বাংলায় উন্নত কৃষি ও নগর সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
২. আর্য স্তর: খ্রিস্টপূর্ব কয়েক শতক আগে থেকে বাংলায় আর্যদের আগমন ঘটে। এর ফলে বাঙালির শারীরিক গঠনে এবং ভাষায় এক নতুন পরিবর্তন আসে।
৩. পরবর্তী সংমিশ্রণ (ভিন্ন দেশি ও গোষ্ঠী): মধ্যযুগে এবং তার পরবর্তী সময়ে নানা বিদেশি শক্তি ও ধর্ম প্রচারকদের আগমনে বাঙালির রক্তে আরও বৈচিত্র্য যুক্ত হয়:
v মোঙ্গলীয়: উত্তর ও পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে এদের প্রভাব স্পষ্ট।
v সেমিটিক ও তুর্কি: আরব, পারস্য এবং তুরস্ক থেকে আসা মুসলিমদের মাধ্যমে এই ধারার প্রবেশ ঘটে।
v ইউরোপীয়: পর্তুগিজ, ওলন্দাজ ও ইংরেজদের সাথেও সীমিত পর্যায়ে রক্ত বিনিময় হয়েছে।
আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।
0 মন্তব্যসমূহ