একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যা জান লিখ। 211001-12-2018

 প্রশ্ন: একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যা জান লিখ। 211001-12-2018

        উত্তর: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে এই বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য ছিল মেধাবী দক্ষ নাগরিকদের চিরতরে শেষ করে দিয়ে নবজাত রাষ্ট্রটিকে একটি পঙ্গু বুদ্ধিবৃত্তিক মেরুদণ্ডহীন জাতিতে পরিণত করাএই নির্মম হত্যাকাণ্ডের গতিপ্রকৃতি ও কারণ নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে, তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র: মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ব্রিগেডিয়ার রাজা এহসানুল হকের নেতৃত্বে এই গণহত্যার নীল নকশা তৈরি হয়। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের শেষলগ্নে শিক্ষক, সাংবাদিক চিকিৎসকদের মতো সমাজ গড়ার কারিগরদের নিঃশেষ করা

ঘাতক বাহিনী গঠন: হত্যাকাণ্ডটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানি সেনারা জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন আল-বদর আল-শামস বাহিনীকে ব্যবহার করে। তারা স্থানীয় পথপ্রদর্শক ঘাতক হিসেবে প্রতিটি বুদ্ধিজীবীর পরিচয় ঠিকানা শনাক্ত করে

সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন: হত্যার জন্য আগে থেকেই ডায়েরিতে নাম-ঠিকানাসহ একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রখ্যাত লেখক বিজ্ঞানীদের নাম ছিল, যা একটি সুপরিকল্পিত নিধনের প্রমাণ দেয়

অপহরণের নৃশংসতা: ১০ থেকে ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে ঘাতকরা বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। অন্ধকার রাতে ট্রাক বা জিপে করে তাঁদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে বন্দি করা হয়

বধ্যভূমি নির্যাতন: আটককৃতদের রায়েরবাজার মিরপুরের মতো নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারালো অস্ত্র বা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয়। অনেকের মৃতদেহ পচে-গলে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে চেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল

মেধাশূন্য করার লক্ষ্য: এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একটি জাতির চালিকাশক্তিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়। দেশ স্বাধীন হলেও এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণে বাংলাদেশ শুরুতেই এক বিশাল প্রশাসনিক বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটের মুখে পড়ে

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: বাঙালির ইতিহাসে ১৪ই ডিসেম্বরকে এই আত্মত্যাগের স্মরণে 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিজয়ের আনন্দ কতটা রক্তক্ষয়ী ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে

 

 আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments