প্রশ্ন: বাঙালির লৌকিক দেব-দেবীর
পরিচয় দাও। 211001-3-2019
উত্তর: বাঙালির লৌকিক দেব-দেবী মূলত গ্রামীণ সমাজের বিশ্বাস, আচার ও লোকসংস্কৃতির অংশ। এরা প্রাকৃতিক শক্তি, রোগ-ব্যাধি, ফসল ও জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, ভয়-আশা ও বিশ্বাস থেকেই এসব দেব-দেবীর উদ্ভব ও পূজার প্রচলন হয়েছে।
এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে, তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।
মনসাঃ মনসা হলেন সাপের
দেবী, যিনি
সাপের দংশন
থেকে রক্ষা
করেন বলে
বিশ্বাস করা
হয়। গ্রামবাংলায়
বিশেষ করে
বর্ষাকালে তাঁর
পূজা প্রচলিত
এবং “মনসামঙ্গল”
কাব্যে তাঁর
কাহিনি বর্ণিত।
শীতলাঃ শীতলা দেবী বসন্ত,
গুটি বসন্ত
ও অন্যান্য
সংক্রামক রোগের
দেবী হিসেবে
পরিচিত। রোগ
থেকে মুক্তি
ও সুস্থতার
জন্য গ্রামীণ
মানুষ তাঁর
পূজা করে
এবং ঠাণ্ডা
খাবার উৎসর্গ
করে।
ধর্মঠাকুরঃ ধর্মঠাকুর বাংলার
একটি প্রাচীন
লৌকিক দেবতা,
যিনি ন্যায়,
বিচার ও
সমাজের মঙ্গল
রক্ষা করেন
বলে বিশ্বাস
করা হয়।
গ্রামীণ সমাজে
তাঁর পূজা
বিশেষভাবে প্রচলিত।
গাজী পীরঃ
গাজী পীর
মুসলিম সম্প্রদায়ের
একটি লৌকিক
সাধক, যিনি
বাঘ ও
অন্যান্য বন্য
প্রাণীর হাত
থেকে মানুষকে
রক্ষা করেন
বলে বিশ্বাস
করা হয়।
হিন্দু-মুসলিম
উভয় সম্প্রদায়েই
তাঁর পূজা
দেখা যায়।
বনবিবিঃ বনবিবি সুন্দরবন অঞ্চলের
লৌকিক দেবী,
যিনি বনজীবী
মানুষদের রক্ষা
করেন। মৎস্যজীবী
ও মৌয়ালরা
বনে যাওয়ার
আগে তাঁর
কাছে আশ্রয়
প্রার্থনা করে।
লক্ষ্মীঃ লক্ষ্মী দেবী
ধন-সম্পদ
ও সমৃদ্ধির
প্রতীক হিসেবে
পূজিত হন।
গ্রামবাংলায় বিশেষ
করে নতুন
ধান ওঠার
সময় লক্ষ্মীপূজা
করা হয়।
শশ্ঠীঃ ষষ্ঠী দেবী শিশুদের
রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে
পরিচিত। নবজাতক
ও শিশুর
মঙ্গল কামনায়
মায়েরা তাঁর
পূজা করে
এবং বিশেষ
আচার পালন
করে।
আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।
0 মন্তব্যসমূহ