মধ্যযুগে বাংলার গ্রামগুলো ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ- উক্তিটির আলোকে মধ্যযুগে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির স্বরূপ ব্যাখ্যা কর। 211001-15-2018

 প্রশ্ন: মধ্যযুগে বাংলার গ্রামগুলো ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ- উক্তিটির আলোকে মধ্যযুগে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির স্বরূপ ব্যাখ্যা কর। 211001-15-2018

        উত্তর: মধ্যযুগে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদাপূরণে সক্ষম প্রতিটি গ্রাম তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র অন্যান্য নিত্যপণ্য নিজেরাই উৎপাদন করত বাইরের জগতের ওপর নির্ভরশীলতা কম থাকায় এবং গ্রামগুলো নিজস্ব শাসন অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় এগুলোকেস্বয়ংসম্পূর্ণইউনিট বা ছোট রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করা হয় নিচে আলোচনার মাধ্যমে তখনকার জীবনযাত্রার চিত্রটি বোঝার হলো:

এখানে পয়েন্ট আকারে দিলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে, তাই এখানে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হয়েছে।


কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা: বাংলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি। উর্বর পলিমাটির কারণে ধান, আখ, তুলা এবং তেলবীজ প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হতো। কৃষকরা তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল স্থানীয় বাজারে বিনিময় করত, যা গ্রামকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখত

পেশাভিত্তিক শ্রমবিভাগ: গ্রামে বিভিন্ন পেশাজীবী যেমনকামার, কুমার, তাঁতি, ছুতার জেলে বাস করত। তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য বা সেবার বিনিময়ে কৃষকদের কাছ থেকে শস্য গ্রহণ করত। এই বিনিময় প্রথা বা 'বিনিময় অর্থনীতি' গ্রামের অভ্যন্তরীণ স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করত

বস্ত্রশিল্পের সমৃদ্ধি: বাংলার প্রতিটি গ্রামে তুলা চাষ এবং সুতা কাটার রেওয়াজ ছিল। স্থানীয় তাঁতিরা গ্রামবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় মোটা সূক্ষ্ম কাপড় তৈরি করত। নিজস্ব কাঁচামাল কারিগর থাকায় বস্ত্রের জন্য গ্রামবাসীদের বাইরের শহরের ওপর নির্ভর করতে হতো না

কুটির শিল্পের বিকাশ: কৃষির পাশাপাশি গ্রামে বাঁশ, বেত মৃৎশিল্পের ব্যাপক প্রসার ছিল। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য হাড়ি-পাতিল, ঝুড়ি, লাঙল আসবাবপত্র গ্রামেই তৈরি হতো। এসব কুটির শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় এবং সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত

হাট-বাজার বিনিময় প্রথা: গ্রামগুলোতে নিয়মিত হাট বসত যেখানে স্থানীয়রা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বেচাকেনা করত। কড়ি বা ধাতব মুদ্রার প্রচলন থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পণ্য বিনিময় (Barter System) চলত। এই স্থানীয় বাজারগুলোই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র

ভূমির মালিকানা খাজনা: তৎকালীন ব্যবস্থায় জমির ওপর কৃষকের প্রথাগত অধিকার ছিল। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে মোড়ল বা পাটোয়ারীরা খাজনা আদায় করতেন। সাধারণত উৎপাদিত ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ কর হিসেবে দেওয়া হতো, ফলে ফলন খারাপ হলে কৃষকের ওপর চাপ কিছুটা কম থাকত

প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা সহজ জীবন: নদীমাতৃক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেচ যাতায়াত ছিল সহজ। গ্রামগুলো বনজ জলজ সম্পদে সমৃদ্ধ থাকায় মাছ জ্বালানির অভাব হতো না। এই প্রাকৃতিক প্রাচুর্যই মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিকে বাইরের সাহায্য ছাড়াই সচল থাকার শক্তি জোগাত

 

 

 

আরো অন্য উত্তরের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments